মাহাবুবুর রহমান শিপন, স্টাফ রিপোর্টার
নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন, কে.জি. স্কুল ও মাদ্রাসায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা রয়েছে কি না, তা সরেজমিনে তদারকি ও পানির গুণগত মান পরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
অভিভাবকদের অভিযোগ, উপজেলার কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের পান করার জন্য ব্যবহৃত পানির উৎস ও এর নিরাপত্তা নিয়ে পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। কোথাও টিউবওয়েলের পানি ব্যবহৃত হচ্ছে, আবার কোথাও পরিশোধিত বা ফিল্টার করা পানির পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই বলেও অভিযোগ রয়েছে।
অভিভাবকদের মতে, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক কোমলমতি শিক্ষার্থী এসব প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। তাই তাদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। পানির উৎস অনিরাপদ হলে পানিবাহিত রোগসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পানির উৎস ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ অনিরাপদ পানির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার সম্পর্কের কথাও জানিয়েছেন। তবে কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্যসমস্যার কারণ হিসেবে পানিকে দায়ী করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ ও পানির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সম্প্রতি উপজেলার কয়েকটি মাদ্রাসা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পানির ব্যবস্থা ও সার্বিক স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান।
অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি, চাটখিল উপজেলার প্রতিটি কিন্ডারগার্টেন, কে.জি. স্কুল, মাদ্রাসা ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পানির উৎস পর্যায়ক্রমে পরীক্ষা করা হোক। পানিতে আর্সেনিকসহ ক্ষতিকর উপাদান রয়েছে কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। কোনো পানির উৎস অনিরাপদ প্রমাণিত হলে সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি আর্সেনিকমুক্ত টিউবওয়েল, পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টার ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন, শিক্ষা বিভাগ ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পানির উৎস ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সরেজমিনে পরিদর্শন, প্রয়োজনীয় পানি পরীক্ষা এবং পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শন ও পানি পরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত পরিস্থিতি নিরূপণ করা গেলে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিভাবকদের উদ্বেগও দূর হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রতিবেদনে তা তুলে ধরা হবে।